তথ্য প্রযুক্তি - মুহম্মদ জাফর ইকবাল
বর্তমান পৃথিবীটা হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির পৃথিবী। কথাটা যে সত্যি সেটা খুব
সহজেই প্রমাণ পাওয়া যায়। আজ থেকে এক যুগ আগে কারাে কোনাে তথ্যের
প্রয়ােজন হলে মানুষ বই খুলে দেখত-- এখন আর কেউ সেটা করে না। যখন কারাে
তথ্যের প্রয়ােজন হয় সে কম্পিউটারের সামনে বসে, কী-বাের্ডে দুই একটি টোকা
দেয়, মাউসে কয়েকবার ক্লিক করে । সাথে সাথে তথ্য চোখের পলকে তার কাছে চলে
আসে-তথ্যটি পাশের রাস্তা থেকে এসেছে নাকি পৃথিবীর অন্য পাশ থকে এসেছে সেটা
আজকাল কেউ জানতেও চায় না। জানার প্রয়ােজনও নেই। কারণ পুরো পৃথিবীটা এখন
সবার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এই অসাধারণ ব্যাপারটি ঘটা সম্ভব হয়েছে তথ্য
প্রযুক্তির একটা বিপ্লবের কারণে।
তথ্য প্রযুক্তি নামে সারা পৃথিবীতে যে বিপ্লবটি ঘটেছে তার পিছনে যে
যন্ত্রটি কাজ করছে তার নাম ডিজিটাল কম্পিউটার। কম্পিউটারের ভেতরকার
ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়া করার জন্যে সম্ভাব্য সব সিগনাল ব্যবহার না করে
সুনির্দিষ্ট কিছু সিগনাল বা ডিজিটাল সিগনাল ব্যবহার করা হয় বলে এর নাম
ডিজিটাল কম্পিউটার। আমাদের বর্তমান পৃথিবী এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে যে,
এখন। খুব কম লােকই খুঁজে পাওয়া যাবে যার জীবনকে কোনাে না কোনােভাবে
কম্পিউটার স্পর্শ করে নি। হিসেবনিকেশ করতে কম্পিউটারের দরকার হয়,
ব্যবসাপাতিতে কম্পিউটার দরকার হয়, এমনকি শিল্প সাহিত্য বা বিনােদন করতেও
আজকাল কম্পিউটারের দরকার হয়।
১৯৭৭ সালে ভয়েজার ১ আর ২ নামে দুটো মহাকাশযান সৌরজগতে তাদের যাত্রা শুরু
করেছিল। সৌরজগৎ পাড়ি দেবার সময় মহাকাশযান দুটো গ্রহগুলাের পাশে দিয়ে
গিয়েছে এবং যাবার সময় সেই গ্রহগুলাে সম্পর্কে নানা তথ্য পৃথিবীতে
পাঠিয়েছে। ছােট একটি যন্ত্র হয়েও পৃথিবীর গবেষকদের কাছে সবচেয়ে বেশি
তথ্য পাঠানাের কৃতিত্বটুকু ভয়েজার মহাকাশযানগুলােকে দেওয়া হয়। এই
চমকপ্রদ কৃতিত্বটুকুর পিছনে ছিল একটা কম্পিউটার, যেটি ভয়েজার মহাকাশযানকে
সৌরজগতের ভেতর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে, তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং নিখুঁতভাবে
সেই তথ্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। কেউ যেন মনে না করে যে, ভয়েজার মহাকাশযানের
কম্পিউটার বুঝি ছিল অসাধারণ কোনাে কম্পিউটার। বস্তুত সেগুলাে ছিল খুবই
সাধারণ কম্পিউটার। সত্যি কথা বলতে কি আমরা এখন যে কম্পিউটার ব্যবহার করি
তার তুলনায় ১৯৭৭ সালের সেই কম্পিউটার ছিল প্রায় একটা খেলনার মতাে।
তারপরেও সেটি অসাধ্য সাধন করেছিল, কারণ বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে বসে যখন যেভাবে
প্রয়ােজন তখন সেভাবে প্রোগ্রাম করে কম্পিউটারটিতে পাঠাতেন।
কম্পিউটারটিও তাই যখন যেরকম প্রয়ােজন সেভাবে তার দায়িত্ব পালন করত। অন্য
যে-কোনাে যন্ত্র থেকে সে কারণে কম্পিউটার আলাদা এবং এটাই কম্পিউটারের
সবচেয়ে ও বড় শক্তি। একটা কম্পিউটারকে কোন কাজে ব্যবহার করা হবে সেটা
নির্ভর করে মানুষের ওপরে। একজন মানুষ যত সৃজনশীল হবে কম্পিউটারের কাজকর্ম
হবে তত চমকপ্রদ।
কম্পিউটার ব্যবহার করে যে অসংখ্য কাজ করা যায় তার একটি হচ্ছে কম্পিউটার
নেটওয়ার্ক, যেখানে কম্পিউটারকে একসাথে জুড়ে দেওয়া হয়। কেউ যেন মনে না
করে, এতে শুধু একটা ঘরের কয়েকটা কম্পিউটার কিংবা একটা প্রতিষ্ঠানের
কয়েকটা কম্পিউটার জুড়ে দেয়া হয়। আসলে সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ
কম্পিউটারকে একসাথে জুড়ে দিয়ে বিশাল একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে।
সেটা ঠিকভাবে করার জন্যে তথ্য বিনিময় বা তথ্য যােগাযােগের নতুন নতুন
প্রযুক্তি গড়ে উঠেছে। তার একটি হচ্ছে ফাইবার অপটিক্স, যেখানে চুলের মতাে
সূক্ষ্ম একটা কাচের তন্তুর ভেতর দিয়ে তথ্য পাঠানাে যায়। সবচেয়ে চমকপ্রদ
ব্যাপার হচ্ছে তথ্যটা বৈদ্যুতিক সংকেত হিসেবে যায় না, সেটা যায় আলাে
হিসেবে। সেই আলাে কিন্তু দৃশ্যমান আলাে নয়, সেটি অবলাল আলাে, আমরা তাই
চোখে সেটা দেখতেও পাই না। ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির সাথে ব্যবহার করার জন্যে
রকমারি প্রযুক্তি গড়ে উঠেছে এবং সব কিছু মিলিয়ে এখন রয়েছে পৃথিবী জোড়া
বিশাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক।
সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার একসাথে জুড়ে দেওয়ার পর সেটা দিয়ে অনেক
কিছুই করা সম্ভব। কিছু করা হয়েছে, কিছু করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কী করা
যাবে সেটা নিয়ে পৃথিবীর সৃজনশীল মানুষেরা সবসময় চিন্তা করছে। পৃথিবীজোড়া
বিশাল নেটওয়ার্কের একটা ব্যবহারের কথা আমরা মােটামুটি সবাই শুনেছি সেটি
হচ্ছে ইন্টারনেট। সাধারণ তথ্যের জন্যে এখন ইন্টারনেটের কোনাে বিকল্প নেই।
মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনের সব খবরাখবর ইন্টারনেট থেকে নেয়। শুধু যে বাস
ট্রেন বা প্লেনের সময়সূচি ইন্টারনেটে পাওয়া যায় তা নয়,সেগুলাের টিকেটও
ইন্টারনেটে কেনা যায়। পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ এখন সত্যিকারের খবরের কাগজ
না পড়ে ইন্টারনেটে খবর পড়ে। গবেষণার জার্নাল এখন ইন্টারনেটে প্রকাশ করা
হয়। কেনাকাটার সবচেয়ে বড়পদ্ধতি এখন ইন্টারনেট। জিনিসপত্র নিলামে বিক্রি
করতে হলে এখন ইন্টারনেটের চাইতে ভালাে কোনাে উপায় নেই।
রেডিও টেলিভিশন ইন্টারনেটে চলে এসেছে, বন্ধুত্ব বা নানারকম সামাজিক
কর্মকাণ্ড এখন ইন্টারনেট ঘিরে গড়ে উঠেছে। বিজ্ঞাপন বা নির্বাচনী প্রচারণার
জন্যে এখন ইন্টারনেটের চাইতে ভালাে কোনাে উপায় নেই। অর্থাৎ এক কথায় বলা
যায়- সরল কিংবা জটিল, সহজ কিংবা কঠিন, গুরুত্বপূর্ণ কিংবা তুচ্ছ। সব কাজই
এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে করা হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে এর ব্যবহার বৃদ্ধি
পাচ্ছে এবং মােটামুটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়, যারা ইন্টারনেট থেকে
বিচ্ছিন্ন, তারা জোর কদমে ছুটে চলা পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে
না, দেখতে দেখতে তারা পিছিয়ে পড়বে। পৃথিবীজোড়া লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারের
নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে শুধু যে ইন্টারনেটে তথ্য বিনিময় গড়ে উঠেছে
তা নয়, বিজ্ঞানীরা এবং গণিতবিদরা সেটাকে গবেষণার কাজেও ব্যবহার করেন।
একটা ছােট কম্পিউটার ছােট একটা কাজ করতে পারে কিন্তু লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারকে
যদি একসাথে করা হয় তাহলে তারা বিশাল কাজ করে ফেলতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে
বড় প্রাইম সংখ্যা এভাবে খুঁজে বের করা হয়েছে। কম্পিউটার যখন ব্যবহার করা
হয় না তখন অলস হয়ে বসে না থেকে বিজ্ঞানী কিংবা গণিতবিদদের বড় বড়
সমস্যা সমাধানের কাজে লেগে যেতে পারে। এটি হচ্ছে মাত্র একটি উদাহরণ, আরাে
অনেক উদাহরণ আছে এবং সবচেয়ে বড় কথা ভবিষ্যতে আরাে সুন্দর । আরাে চমকপ্রদ
উদাহরণ আসবে সে ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
কম্পিউটার কথাটি বলা হলেই আমাদের চোখের সামনে কম্পিউটারের যে ছবিটি ভেসে
ওঠে তা হলাে- টেলিভিশনের মতাে মনিটর, কী বাের্ড, মাউস এবং চৌকোণাে বাক্সের
মতাে সি.পি.ইউ। কিন্তু সেটাই কম্পিউটারের একমাত্র রূপ নয়। আজকাল ব্যাটারি
চালিত ল্যাপটপ চলে এসেছে, সেটা ব্যাগে নিয়ে চলাফেরা করা যায়। আবার বিশাল
আকারের সুপার কম্পিউটার রয়েছে যেটাকে শীতল রাখার জনেই রীতিমতাে দক্ষযজ্ঞের
আয়ােজন করতে হয়। যেরকম বড় কম্পিউটার রয়েছে ঠিক সেরকম ছােট কম্পিউটারও
রয়েছে যেগুলাে মােবাইল টেলিফোন, ক্যামেরা, ফ্রিজ, ওভেন কিংবা লিফটের মতাে
দৈনন্দিন ব্যবহারী জিনিসের মাঝে বসানাে আছে। আমরা আলাদাভাবে কম্পিউটারকে
দেখি না, কিন্তু সেটা আমাদের চোখের আড়ালে অসংখ্য যন্ত্রপাতিকে সচল করে
রাখছে। একসময় টেলিফোন ছিল একটা বুদ্ধিহীন কথা বলা এবং শােনার যন্ত্র। এখন
আর তা নয়- মােবাইল টেলিফোন রীতিমতাে বুদ্ধিমান যন্ত্র। এমন অনেক মােবাইল
টেলিফোন আছে যেটা একই সাথে টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন, ক্যামেরা, টেপ
রেকর্ডার, ক্যালকুলেটর, জিপিএস এবং ছােটখাটো একটা কম্পিউটার। আমরা এটা হাতে
নিয়ে যেখানে খুশি যেতে পারি, যে-কোনাে রকম তথ্য সগ্রহ করতে পারি, তথ্য
সংরক্ষণ করতে পারি এবং তথ্য বিনিময় করতে পারি। কিছুদিন আগেও সেটা
কল্পবিজ্ঞানের মতাে ছিল, এখন পুরােপুরি বাস্তব।
যারা ইতিহাস পড়েছে তারা জানে, আজ থেকে প্রায় দুইশ বৎসর আগে পৃথিবীতে
শিল্পবিপ্লব হয়েছিল। যারা সেই শিল্পবিপ্লবে অংশ নিয়েছিল তারা পৃথিবীটাকে
শাসন করেছে-অনেক সময় শােষণ করেছে। এ মুহূর্তে শিল্পবিপ্লবের মতাে
গুরুত্বপূর্ণ একটা বিপ্লব হচ্ছে যেটাকে আমরা বলছি তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব।
বলার অপেক্ষা রাখে না, যারা এই তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবে অংশ নেবে তারা
পরবর্তী পৃথিবীকে শাসন করবে।
আমরা শিল্পবিপ্লবে অংশ নিতে পারি নি বলে বাইরের দেশ আমাদের শাসন-শােষণ
করেছে। আমরা আবার সেটা হতে দিতে পারি না। এই নতুন তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবে
আমাদের অংশ নিতেই হবে। সেই দায়িত্বটা পালন করতে হবে নতুন প্রজন্মকে, যারা
নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে জ্ঞানে বিজ্ঞানে এবং প্রযুক্তিতে। তারা
ঠিকভাবে লেখাপড়া করবে, অন্য সব বিষয়ের সাথে সাথে গণিত এবং ইংরেজিতেও সমান
দক্ষ হয়ে উঠবে, কম্পিউটারের সাথে পরিচিত হবে। যখন কম্পিউটার ব্যবহারের
সুযােগ পাবে তখন সেটাকে বিনােদনের একটা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে শেখার
একটা মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহার করবে, নিজেদের সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে
তুলবে। তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদ হিসেবে গড়ে উঠে
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে তুলতে সাহায্য
করবে।
শব্দার্থ ও টীকা ডিজিটাল (Digital): কম্পিউটারে
ইলেকট্রনিক কাজকর্ম করার জন্যে যে বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করা হয় তার
নির্দিষ্ট মান রয়েছে। সুনির্দিষ্ট এই মানের একটিকে ০ অন্যদিকে 1 বিবেচনা
করে বাইনারি সংখ্যা হিসেবে কম্পিউটারের ভেতরে সকল হিসেব-নিকেশ করা হয়।
সম্ভাব্য সব মান ব্যবহার না করে সুনির্দিষ্ট দুটি মান দুটি অঙ্ক (Digit) এর
জন্যে রয়েছে। তাই ব্যবহার করার প্রক্রিয়াটিকে সাধারণভাবে ডিজিটাল বলা
হয়।
প্রােগ্রাম : কম্পিউটারকে একটি নির্দেশ দেওয়া হলে সেটি সেই
নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে। এরকম অসংখ্য নির্দেশকে পাশাপাশি সাজিয়ে
কম্পিউটার প্রােগ্রাম লেখা হয় এবং কম্পিউটার প্রােগ্রাম লিখে কম্পিউটার
দিয়ে অনেক জটিল কাজ করানাে সম্ভব হয়।
অবলাল : আলাে একটি তরঙ্গ। এই তরঙ্গদৈর্ঘ্য একটি নির্দিষ্ট মান থেকে কম হলে আমরা
দেখতে পাই না। আবার তরঙ্গদৈর্ঘ্য যদি আরেকটি নির্দিষ্ট মান থেকে বড় হয়
তবে সেটাও আমরা দেখতে পাই না। দৃশ্যমান আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য থেকে বড় হওয়ার
কারণে যে আলােকে আমরা দেখতে পাই না সেটাকে অবলাল বলে।
জিপিএস : Global Positioning System (GPS) দিয়ে পৃথিবীর যে
কোনাে জায়গার অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে বের করা যায়। মহাকাশে অনেকগুলাে
কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে। এই উপগ্রহ থেকে পাঠানাে সংকেত ব্যবহার করে জিপিএসের
মাধ্যমে কোনাে কিছুর অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে বের করা হয়।
পাঠ-পরিচিতি :
বর্তমান পৃথিবী হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির যুগ অর্থাৎ তথ্য সংগ্রহ, তথ্য
সংরক্ষণ আর তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে একটা যুগান্তকারী
পরিবর্তন এসেছে। তথ্য প্রযুক্তির এই বিপ্লবের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা
রাখছে কম্পিউটার’ নামের যন্ত্রটি। এটি মানুষের নির্দেশে কাজ করে, তাই একজন
মানুষ যতটুকু সৃজনশীল তার কম্পিউটারের কাজ করার ক্ষমতাও ঠিক ততটুকু
চমকপ্রদ। দুই শ বছর আগে পৃথিবীতে একটা শিল্পবিপ্লব হয়েছিল, সেই বিপ্লবে
যারা অংশ নিয়েছিল পরবর্তী সময়ে তারাই পৃথিবীকে শাসন করেছিল। ঠিক এই
মুহূর্তে শিল্পবিপ্লবের মতােই। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটছে-
যারা এই বিপ্লবে অংশ নেবে তারাই নতুন পৃথিবীর নেতৃত্ব দেবে। বাংলাদেশকে
পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানাের জন্যে নতুন প্রজন্ম তথ্য
প্রযুক্তিতে নিজেদের দক্ষ করে তুলবে সেটি সবারই প্রত্যাশা।
লেখক পরিচিতি: মুহম্মদ
জাফর ইকবালের জন্ম ১৯৫২ সালে সিলেট শহরে। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা
জেলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশােনা করেছেন
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ আঠারাে বছর থেকে তিনি দেশে ফিরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং
বিভাগে চনি শিশু-কিশােরদের জন্যে লেখালেখি করেন। বিজ্ঞান বিষয়ক লেখার
জন্যে তাঁকে ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। তাঁর
রচিত গ্রন্থের মধ্যে আমি তপু, বৃষ্টির ঠিকানা, ‘প্রােজেক্ট নেবুলা’,
‘নিঃসঙ্গ গ্রহচারী’ ‘নিতু ও তার বন্ধুরা, ক্রমিয়াম অরণ্য’ ও ‘দীপু নম্বর
টু’ উল্লেখযােগ্য।
সৃজনশীল প্রশ্ন উদ্দীপকটি
পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও : সােনিয়া আমেরিকার এম. আই. এস. টি-তে ভর্তি
হবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার যাবতীয় তথ্য সে
ইন্টারনেটের মাধ্যমে জোগাড় করলাে। সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ই মেইল
ঠিকানা জেনে সােনিয়া তাদের সাথেও যােগাযােগ স্থাপন করলাে। ইন্টারনেটের
মাধ্যমে ভর্তি হবার সব তথ্য জেনে সােনিয়ার মনে হলাে তথ্য প্রযুক্তিতে
সমৃদ্ধ হলেই এদেশ সমৃদ্ধ হতে পারবে।
ক. জি.পি.এস. কী?
খ.‘মােবাইল টেলিফোন বুদ্ধিমান যন্ত্র’ কেন?
গ. উদ্দীপকটিতে ‘তথ্য প্রযুক্তি প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে ‘তথ্য প্রযুক্তি' প্রবন্ধের মূল ভাবনা উন্মােচিত হয়নি - মূল্যায়ন কর।

0 Comments